
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (পিএলসি) কারখানায় সারবাহী ট্রাক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চলমান অবৈধ চাঁদাবাজি কঠোর হাতে বন্ধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কারখানার ব্যাগিং সেকশনে উপস্থিত হয়ে তারা এই চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধের ঘোষণা দেন এবং চালক ও শ্রমিকদের কড়া নির্দেশ প্রদান করেন।
কারখানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে একটি কুচক্রী মহল ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের ব্যাগিং সেকশনের শ্রমিক এবং সার পরিবহনকারী ট্রাকগুলোর চালকদের জিম্মি করে প্রতি ট্রাকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায় করে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে তারা জনস্বার্থে তাৎক্ষণিক এই অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের জোরালো উদ্যোগ নেন।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকালে নেতাকর্মী দলবেঁধে ব্যাগিং সেকশনে গিয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তারা ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে সাফ জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে কেউ আর কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা বা অতিরিক্ত অর্থ দেবেন না। যদি কোনো চাঁদাবাজ টাকা দাবি করে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য চালক ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
চাঁদাবাজি বন্ধের এই কার্যক্রমে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পলাশ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আলামিন ভূইয়া, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতি, কারখানার জিএম (প্রশাসন) ফখরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ বাসেদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামীম ভূইয়া, পলাশ থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেল, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমান উল্লাহসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা নেতৃবৃন্দের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের আশা, এই নজরদারি অব্যাহত থাকলে ঘোড়াশাল সার কারখানায় সার পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বেশি গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :