মুক্ত স্বদেশ রাজস্ব ও মুনাফায় চুয়াডাঙ্গার কেরুর নতুন রেকর্ড | মুক্ত স্বদেশ

রাজস্ব ও মুনাফায় চুয়াডাঙ্গার কেরুর নতুন রেকর্ড


নিউজ ডেস্ক অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ন
রাজস্ব ও মুনাফায় চুয়াডাঙ্গার কেরুর নতুন রেকর্ড

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে যেন সাফল্যের নতুন সমীকরণ। চিনিকল ইউনিটে লোকসান থাকলেও ডিস্টিলারি ও অন্যান্য লাভজনক ইউনিটের শক্তিশালী আয়ে সামগ্রিকভাবে মুনাফার ধারায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট ও আয়করসহ বিপুল রাজস্ব জমা দিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর চিনিকল ইউনিটে প্রায় ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। বিপরীতে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে লাভ এসেছে প্রায় ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়ীয়া, বায়ো ফার্টিলাইজার ও ডিস্টিলারি ফার্মসহ অন্যান্য ইউনিটের আয় যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকায়।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, চিনিকলের ক্ষতি সত্ত্বেও অন্যান্য ইউনিটের বহুমুখী আয় কেরুর আর্থিক ভিত্তিকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করছে। একই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোষাগারে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ জমা দিয়েছে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব।

হিসাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুর চিনিকল ইউনিটে লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা। ওই বছর ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে লাভ হয় ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৪ টাকা এবং মোট মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ডিস্টিলারি ইউনিটের লাভ বেড়েছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে রাজস্ব জমাও ১৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, “কেরুজ চিনিকল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। প্রতিষ্ঠানটিকে একটি টেকসই ও লাভজনক পর্যায়ে উন্নীত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মানসম্মত আখ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আখচাষিদের কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী নয়, প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মনে করে সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে চিনিকল ইউনিটটিকেও লোকসান মুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিস্টিলারির অভাবনীয় সাফল্য ও রাজস্বে বিশাল অবদানের পাশাপাশি চিনিকল ইউনিটের লোকসান কমিয়ে আনতে পারলে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির সাফল্যের সম্ভাবনা আগামীতে আরও উজ্জ্বল হবে।