মুক্ত স্বদেশ নাটোরে আঙুর চাষে আমজাদের বাজিমাত, স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন | মুক্ত স্বদেশ

নাটোরে আঙুর চাষে আমজাদের বাজিমাত, স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন


নিউজ ডেস্ক জুলাই ৬, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ন
নাটোরে আঙুর চাষে আমজাদের বাজিমাত, স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন

নাটোরে আঙুর চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন আমজাদ হোসেন নামে এক চাষি। প্রথমে শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দেশের মাটিতে এমন সুমিষ্ট আঙুরের বাম্পার ফলন দেখে অভিভূত স্থানীয়রা। আমজাদের এই উদ্যোগ দেখে জেলার অনেক বেকার যুবক ও নতুন উদ্যোক্তারা এখন আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেন গত বছর প্রথমবারের মতো ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করে তার বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। প্রথম বছরেই পলিথিন শেড নির্মাণ করে পরিচর্যা করায় প্রতিটি গাছে ৭ থেকে ৮ কেজি করে ফল আসে। উৎপাদিত আঙুর বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় তিনি উৎসাহিত হয়ে পরবর্তী সময়ে বাইকুনুর, ভ্যালেজ ও ডিক্সন—এই তিন জাতের চারা দিয়ে আরও দুটি বাণিজ্যিকভাবে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন।

চলতি দ্বিতীয় বছরে তার বাগানের প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১২ কেজি করে আঙুর ধরেছে। বাজারে এই আঙুর প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করছেন তিনি। আমজাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে এবং পরামর্শ নিতে আসছেন। অনেকেই তার উৎপাদিত চারা কিনে নিয়ে নিজেদের জমিতে রোপণ করছেন।

সফল চাষি আমজাদ হোসেন বলেন, “বেকার যুবকেরা যদি সঠিক পদ্ধতিতে এই আঙুর চাষ করেন, তবে খুব সহজেই বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। এতে যেমন নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, তেমনি দেশে উৎপাদিত আঙুর দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো যাবে। ফলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানি কমে আসবে এবং দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নাটোরে দিন দিন আঙুর চাষের পরিধি বাড়ছে। বিশেষ করে বাইকুনুর জাতটির ফলন এ অঞ্চলে খুবই ভালো হচ্ছে। এছাড়া ডিক্সন ও ভ্যালেজ জাতের আঙুরও কম-বেশি চাষ হচ্ছে। আমজাদ হোসেনের দেখাদেখি অনেক বেকার যুবকই এখন এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এখন পর্যন্ত আঙুরের যে মিষ্টতা ও স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি ধরে রাখা সম্ভব হলে আগামীতে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।