মুক্ত স্বদেশ মাদরাসা শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাব, গণপিটুনির পর গ্রেপ্তার | মুক্ত স্বদেশ

মাদরাসা শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাব, গণপিটুনির পর গ্রেপ্তার


নিউজ ডেস্ক জুলাই ১, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ন
মাদরাসা শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাব, গণপিটুনির পর গ্রেপ্তার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে এক ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলাসহ মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অনৈতিক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মাহমুদুল হাসান (৩৮) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ঘোড়াদহ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মাদরাসার এক ছাত্রীকে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান কিছুদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিলেন। তিনি মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীকে একান্তে দেখা করার প্রস্তাবসহ বিভিন্ন আপত্তিকর ও অনৈতিক বার্তা পাঠান। এতে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্রীটি বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তা এলাকায় জানাজানি হয়। গত মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় এলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা মোবাইল বার্তার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি ঘটনা অস্বীকার করলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী মাদরাসায় সমবেত হয়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, ছাত্রীর মায়ের মামলার প্রেক্ষিতে শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনৈতিক বার্তা পাঠানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মাদরাসার সুপার মওলানা রহমতুল্লাহ জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে গেছে। তবে খুব দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।