মুক্ত স্বদেশ হলুদ সন্ধ্যার দিনে সড়কে প্রাণ গেল প্রকৌশলীর | মুক্ত স্বদেশ

হলুদ সন্ধ্যার দিনে সড়কে প্রাণ গেল প্রকৌশলীর


নিউজ ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন
হলুদ সন্ধ্যার দিনে সড়কে প্রাণ গেল প্রকৌশলীর

কথা ছিল, ঈদের তৃতীয় দিন ‘বউ’ তুলে নিয়ে আসবে। তখন হবে আনুষ্ঠানিকতা! বিয়ের একদিন বাকি! আজকে হলুদ সন্ধ্যা। কালকে সোমবার (২৩ মার্চ) বউভাতের আনুষ্ঠানিকতা। সাজসজ্জা ও আয়োজন চলছে গোটা বাড়িতে! ঠিক সে মুহূর্তে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ হারিয়েছেন জুলফিকার জিল্লু (২৭) নামে এক যুবক!

রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮টায় পাবনা-নাটোর মহাসড়কের গড়মাটি কলোনি মোড়ে ট্রাক অতিক্রম করে সড়কের পাশে বড় গাছে ধাক্কা লেগে প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে নিহত হন তিনি।

জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পড়ূয়া এক মেয়ের সাথে ফেসবুকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম। ছয় মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে রেজিস্ট্রার করা হয়। মেডিকেল পড়ুয়া সেই মেয়ে রাজশাহীর বাঘা শহরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।

নিহত জিল্লু পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ‘নওদাপাড়া’ গ্রামের আনসারুল মুন্সির কনিষ্ঠ সন্তান। ৫ ছেলের মধ্যে তিনি সবার ছোট। নিহত জুলফিকার জিল্লু কুমিল্লাতে শাহ সিমেন্ট কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত জিল্লুরের চাচাতো ভাই নূর আলম জানান, রোববার (২২ মার্চ) সকালে একাই প্রাইভেটকার চালিয়ে নাটোরের বনপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। ইচ্ছে ছিল, বিয়ের বউভাতে দুধ দিয়ে দই তৈরি করবেন।

পরে সেখান থেকে বোনের বাড়িতে ভাগনিকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসার কথা। সন্ধ্যায় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। কিন্তু তখনি ঘটলো বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা!

রোববার ( রোববার (২২ মার্চ) সকাল ৮ টায় পাবনা- নাটোর মহাসড়কের গড়মাটি মোড়ে পৌঁছালে গতি হারিয়ে কয়েকটি ট্রাক ওভারটেক করার সময় প্রাইভেট কারটি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।

বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল জানান, দ্রুত গতির প্রাইভেটকারটি কয়েকটি দাঁড়ানো ট্রাক অতিক্রম করে যাওয়ার সময় ছিটকে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকার কারণে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে একটি মামলা নথিভূক্ত হয়েছে।

এদিকে বিয়েবাড়িতে আনন্দ বাদ দিয়ে চলছে এখন শোকের মাতম। লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর গোটা গ্রামে স্বজনদের মাঝে আহাজারি চলছে।