
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মুঠোফোনে লুডু খেলার সময় চালে ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় রফিক মিয়া (৪০) নামের এক দিনমজুর যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়উক ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রফিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত লোকমান মিয়ার ছেলে। তার মা–বাবা কেউ বেঁচে ছিলেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শহীদ মাস্টারের বাগানবাড়িতে বসে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদ নামের দুজন মুঠোফোনে লুডু খেলছিলেন। এ সময় রফিক মিয়া সেখানে গিয়ে খেলা দেখতে শুরু করেন এবং তাদের একটি ‘চাল ভুল হয়েছে’ বলে জানান। এই কথা বলার পরই সালমান ও বশির ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং রফিককে খেলা নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাদের শান্ত করেন। কিন্তু এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই সালমান ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকের গলা চেপে ধরেন এবং উপর্যুপরি কিলঘুষি মারেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে রফিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই জিলু মিয়া জানান, লুডু খেলার ভুল ধরিয়ে দেওয়ার তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সালমান ও বশির তাকে মারধর করেন এবং এর পরপরই রফিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সালমান মিয়া ও বশির আহমেদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহে কোনো বড় জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে কিলঘুষির কিছু চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গাছ ও কাঠ থাকায় কোনো কিছুর সঙ্গে চাপ লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :