মুক্ত স্বদেশ বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪ | মুক্ত স্বদেশ

বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ন
বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

বগুড়ার শিবগঞ্জে বাস থামিয়ে পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ।

পুলিশ জানায়, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।

বাপ্পি হোসেন বাসে করে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে বাসটি থামান। পরে তাঁরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন এবং তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাঁকে শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।

এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে প্রথমে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে অভিযান চালানো হয়। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, দিনাজপুরের হাকিমপুরে সাদিকুলের বসতবাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা।

গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।