মুক্ত স্বদেশ ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা | মুক্ত স্বদেশ

ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা


নিউজ ডেস্ক অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ন
ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩৩টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় বর্তমানে হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ১৩ জন চিকিৎসক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা ১৩ চিকিৎসকের মধ্যে দুজন ডেন্টাল সার্জন এবং ১১ জন মেডিকেল অফিসার। তাঁদের একজনকে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায়ই ১০০ ছাড়িয়ে যায়। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

এদিকে শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের চিকিৎসকও প্রেষণে অন্যত্র থাকায় এ ধরনের বিশেষজ্ঞ সেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অনেককে নীলফামারী সদর হাসপাতাল কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক ওয়াহাব আলী বলেন, “রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারি এ হাসপাতালেই যেন প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা পাওয়া যায়।”

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ৩৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন অন্যত্র কর্মরত থাকায় বর্তমানে ১৩ জনকে দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তবে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডিমলায় বর্তমানে চিকিৎসক সংকট নেই; মূলত কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। ৪৮তম বিসিএসের পর মোটামুটি চিকিৎসক পাওয়া গেছে। অন্যত্র দায়িত্ব পালন করেও ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতন নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এমন হওয়ার কথা নয়।”